শেখ হাসিনার দেশত্যাগে কারা ছিলেন, নতুন তথ্য প্রকাশের দাবি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও ভারত যাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে একটি গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাতে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যবহৃত বিমান ও হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং গণভবনের দিকে অগ্রযাত্রার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে তাকে ও তার বোন শেখ রেহানাকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়, কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে আগে থেকেই একটি সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পরে সেই বিমানে করে শেখ হাসিনাকে ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানের উড্ডয়ন ও রুট নির্বাচনেও বিশেষ কৌশল অনুসরণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা পরবর্তীতে নিয়মিত দায়িত্বে যোগ দেন বা বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো হন। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রস্থানের পুরো কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয় এবং বিষয়টি জানতেন হাতে গোনা কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে এসব তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর অবস্থান এবং দেশত্যাগ নিয়েও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) এম সরোয়ার হোসেনের বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, আইন অনুযায়ী কোনো প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা পেতে পারেন। ফলে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সে সময়ের সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয় নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করেন। এরপর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।