জাতিসংঘে মানবাধিকার ইস্যুতে তীব্র বাকযুদ্ধ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স
জাতিসংঘে মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তার পুনর্নিয়োগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভোটাভুটির পর দুই দেশের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে লক্ষ্য করে কড়া মন্তব্য করলে বিষয়টি প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নেয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ভলকার তুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদ অনুমোদনের পর থেকেই এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে ১৪৪টি দেশ তার পক্ষে ভোট দেয়। ভোটদানে বিরত থাকে ১৩টি দেশ, আর বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ। বিরোধী ভোট দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, রাশিয়া ও আর্জেন্টিনা।
ভোটের পর জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে এবং ভলকার তুর্কের নেতৃত্বে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে।
মার্কিন এই বক্তব্যের জবাবে জেনেভায় জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী মিশন এক্সে একটি পোস্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করে। ফরাসি মিশন মন্তব্য করে, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে একসময় নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু দেশের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড়িয়েছে, যাদের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। পাশাপাশি তারা দাবি করে, আন্তর্জাতিক পরিসরে ওয়াশিংটনের প্রভাব আগের তুলনায় কমে গেছে।
ফরাসি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ ওই বক্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্রান্স বিশ্বের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না, অথচ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমালোচনায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
পরবর্তীতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য র্যান্ডি ফাইনও বিতর্কে যোগ দেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির কাছে ফ্রান্সের আত্মসমর্পণের প্রসঙ্গ টেনে ফরাসি অবস্থানের সমালোচনা করেন, যা নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা মিত্রের মধ্যে এমন প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরল ঘটনা। বিষয়টি জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ নীতিগত মতপার্থক্য এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানগত বিভাজনকেও সামনে নিয়ে এসেছে।