ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির তৎপরতা, আসতে পারে নতুন মুখ
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী বাছাইয়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি যাচাই করতে একাধিক জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব জরিপের ফলাফল এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা, অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশনা দিয়েছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে আরও কয়েক দফা জরিপ চালানো হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের কাজও চলছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচনই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান মহানগর নেতাদের কাছে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা, তৃণমূলের সক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে মতামত জানতে চান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দলীয় প্রভাব বা ব্যক্তিগত তদবিরের ভিত্তিতে নয়, বরং জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
দুই সিটিতেই নতুন মুখের সম্ভাবনা
বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই মেয়র পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। অতীতে মেয়র পদে নির্বাচন করা কয়েকজন পরিচিত নেতার পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অতীতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের পরিবর্তে নতুন কাউকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিএনপি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনতে পারে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও নতুন প্রার্থী নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দলীয় বিভিন্ন জরিপে কয়েকজন সম্ভাব্য নেতার নাম উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা এখনই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।
কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ
মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। প্রতিটি ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মহানগর নেতাদের। এসব তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। দলীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগেই প্রার্থী নির্ধারণ করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি কমবে এবং সাংগঠনিক ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হয়েছে বলেও তারা স্বীকার করেছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুত বিএনপি
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সব ধরনের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে দল পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বিএনপি সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। ফলে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতিতে দলটি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।