অনলাইনে মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান, সংসদে সংশোধনী বিল পাস
অনলাইন বা সাইবার মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ এবং বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এটি অনুমোদন পায়। নতুন আইনে একটি অতিরিক্ত ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যা সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কিংবা সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, প্রচার, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা, যোগাযোগ বা এ-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা কিংবা অন্য যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদক লেনদেন বা এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা পরিচালনার চেষ্টা করলেও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত লেনদেন বা তার চেষ্টা করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় অপরাধীর কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।
অন্যদিকে, অপরাধটি যদি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয় বা পুনরায় একই ধরনের অপরাধ করা হয়, তাহলে অভিযুক্তকে যে কোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অ্যাকাউন্ট, ডিভাইস, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি আদালত বা মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশে ব্লক, জব্দ, বাজেয়াপ্ত কিংবা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করা যাবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল রাখার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ জেলা ও মহানগরগুলোতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধানও পুনর্বহাল করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি জেলা ও মহানগরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা যাবে।