মতপ্রকাশের নামে বিদ্বেষমূলক আচরণ নিয়ে সমালোচনা:আলতাফ পারভেজ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ। সম্প্রতি নারী রাজনীতিবিদ সামান্তা শারমিনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সামান্তা শারমিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দুটি ছবি সংযুক্ত করে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট দেন। পোস্টটি প্রকাশের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়ে। শত শত শেয়ার ও হাজারো মন্তব্য জমা হয় সেখানে। এসব প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে আলতাফ পারভেজ মনে করেন, বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষেত্রে এ ধরনের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার উপাদান হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, মন্তব্যগুলোর মধ্যে প্রশংসা, সমালোচনা ও ভিন্নমত থাকলেও বড় একটি অংশে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অবমাননাকর ভাষার ব্যবহার দেখা গেছে। বিশেষ করে একজন নারী রাজনৈতিক কর্মীকে লক্ষ্য করে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণের বর্তমান চিত্র সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
আলতাফ পারভেজ তার লেখায় সামান্তা শারমিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আন্দোলনমুখী সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন সামান্তা। নানা সময় তিনি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখোমুখিও হয়েছেন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য পরিচিতি অর্জন করেছেন।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে-এ ধরনের পরিবেশে নারী রাজনৈতিক কর্মীরা কীভাবে রাজনীতিতে টিকে থাকবেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্বেষমূলক ভাষা এবং সামাজিক অপমানের সংস্কৃতি রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও কঠিন করে তুলছে। লেখক আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে যারা প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে গিয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করছেন, তাদের লক্ষ্য করে অপমানজনক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
আলতাফ পারভেজের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে একটি নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, সহনশীলতা এবং মতের বহুমাত্রিকতাকে ধারণ করার পরিবর্তে সমাজের একটি অংশ ক্রমেই অসহিষ্ণু আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
তার পর্যবেক্ষণে, অনলাইন পরিসরে নারী রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ শুধু ব্যক্তি আক্রমণের বিষয় নয়; এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সামাজিক মানসিকতারও প্রতিফলন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা একসময় একই আন্দোলন ও সংগ্রামের অংশ ছিলেন, তারা বর্তমান এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন।