বিশ্বকাপে আরও চার রেকর্ড মেসির, গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি
বয়স ৩৮ হলেও মাঠে তার পারফরম্যান্সে বয়সের ছাপ নেই। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আরও চারটি অনন্য রেকর্ড গড়ে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার এই অর্জনগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে জোড়া গোল করেন মেসি। এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। শুধু পুরুষদের ফুটবলেই নয়, নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার মার্তাকে, যার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ছিল ১৭।
এদিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ১৮তম জয়, যা কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ জয় হিসেবে নতুন রেকর্ড। এর আগে ১৭ জয় নিয়ে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্লোসা। ম্যাচসংখ্যার দিক থেকেও নিজের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮-এ। এর আগে তিনি জার্মানির লোথার ম্যাথিউসের ২৫ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন।
খেলার মোট সময়ের হিসাবেও বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবার ওপরে অবস্থান করছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রায় পুরো ম্যাচ খেলার ফলে বিশ্বকাপে তার মোট মাঠে থাকার সময় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৮৯ মিনিট। এর আগে ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২ হাজার ২১৭ মিনিটের রেকর্ড ভেঙে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস যে চারটি অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে সেগুলো হলো- বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া খেলোয়াড় এবং বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা ফুটবলার।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ছয়টি আসরে অংশ নিয়ে একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। সর্বশেষ এই চারটি অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের কিংবদন্তিতুল্য অবস্থানকে আরও দৃঢ় করলেন।