সংস্কৃতি মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, ঐতিহ্য সংরক্ষণে ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সোমবার সকালে সচিবালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পূর্ববর্তী সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন এবং পুনরায় সাক্ষাতের সুযোগ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যগত সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। এ সময় রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (AFCP)-এর আওতায় বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য নতুন করে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে এ তহবিলের আওতায় ১৩টি প্রকল্পে মোট ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
এএফসিপির সহায়তায় বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ-এর সংরক্ষণ ও ইসলামিক স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের পুনরুদ্ধার, ডিজিটাল আর্কাইভ নির্মাণ এবং তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ। এছাড়া পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, লালবাগ কেল্লার একটি অংশ এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নেও এ তহবিল সহায়তা করছে। পাশাপাশি বাউল গান, জামদানি তাঁতশিল্প এবং প্রাচীন ধাতব ঢালাইসহ বাংলাদেশের অমূল্য লোকজ ও অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।
বৈঠকে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম সিটির উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি যৌথভাবে ইউএস–বাংলাদেশ কালচারাল ফেস্টিভ্যাল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পী বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। এ সময় ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়টি তুলে ধরেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রী মার্কিন সরকারকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ‘নজরুল বর্ষ’-এর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের অনুবাদ ও সংরক্ষণ প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস নজরুলের সাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী। বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট ফারোহা সোহরাওয়ার্দী, পাবলিক ডিপ্লোমেসি অফিসার স্কট ই. হার্টম্যান, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর তরিকুল ইসলাম নাহিন, প্রোটোকল অ্যাসিস্ট্যান্ট এম. বি. এম. সাদ বিন এলাহীসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।