প্রথম বিদেশ সফরে ২১ জুন মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরে কূটনৈতিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ভারত ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে সরাসরি কোনো এক পক্ষকে অগ্রাধিকার না দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংও বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে নিজ নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানান। তবে শেষ পর্যন্ত প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য মালয়েশিয়াকেই নির্বাচন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ও আলোচ্যসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো নতুন সরকারের প্রধানের প্রথম বিদেশ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও কৌশলগত অবস্থানেরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ মে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করে। পরবর্তীতে ১ জুন কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে ২১ ও ২২ জুন সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।
যদিও আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত হয়নি, তবে অভিবাসন, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা সংখ্যার দিক থেকে অন্যতম বৃহৎ অংশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রমবাজারের পাশাপাশি শিক্ষা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।