‘তোর বাবাকে মারতে চাইনি’-মেয়েকে ফোন, পরে মিলল বাবার মরদেহ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সী (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর মোবাইল ফোন থেকেই মেয়ের নম্বরে কল করে এক ব্যক্তি হত্যার কথা জানিয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত মজনু মুন্সী উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রোববার রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে মজনু মুন্সীর মোবাইল ফোন থেকে তাঁর মেয়ে বৃষ্টি আক্তারের কাছে একটি কল আসে। বৃষ্টি জানান, ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বলেন, তাঁর বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না, তবে একাধিক ছুরিকাঘাতের কারণে তিনি মারা গেছেন। এরপরই কলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ১০টার দিকে বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মজনু মুন্সী। পথে চন্দ্রপাড়া এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকাশ, যিনি বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত, দাবি করেন-তাঁর বাবা ছিনতাইকারীদের চিনে ফেলায় তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগে তাঁর বাবা পরিবারের সদস্যদের কাছে কয়েকজন সন্দেহভাজনের পরিচয় জানিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলছে। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।