ঈদের পরও বাজারে ক্রেতা কম, তবু কমেনি সবজি-মুরগির দাম
কোরবানির ঈদের ছুটি শেষ হলেও রাজধানীর বাজারগুলোতে এখনো স্বাভাবিক ক্রেতা সমাগম ফেরেনি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বৃষ্টির প্রভাবও ছিল কেনাবেচায়। তবে ক্রেতা সংকট থাকা সত্ত্বেও কমেনি নিত্যপণ্যের দাম। বরং মুরগির বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে, আর সবজির দামও রয়ে গেছে উচ্চ পর্যায়ে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ, মাংস ও ডিমের অনেক দোকান এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। মুরগির দোকানগুলো খোলা থাকলেও বিক্রেতাদের বেশিরভাগ সময় কাটছে ক্রেতার অপেক্ষায়। অন্যদিকে বাজারে আসা অধিকাংশ ক্রেতার নজর ছিল সবজি ও কাঁচাবাজারের দিকে।
রাজধানীর শনির আখড়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. লিয়াকত আলী বলেন, ঈদের পর এখনো বাসায় কোরবানির মাংস রয়েছে। ফলে মাছ বা মাংস কেনার প্রয়োজন হচ্ছে না। তবে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে এসে উচ্চমূল্যের কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তার ভাষায়, বেগুন, করলা, পটোল, ঝিঙাসহ অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার আশপাশে রয়েছে। টমেটো, গাজর, শসা ও কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর এখনো সবজির সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন আড়তে অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী এখনো নিয়মিত কার্যক্রমে ফেরেননি। এর সঙ্গে বৃষ্টির প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতাদের মতে, বর্তমানে মৌসুম শেষের দিকে থাকায় শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো কয়েকটি পণ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। তবে সরবরাহ বাড়লে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। এদিকে ক্রেতা কম থাকলেও মুরগির বাজারে উল্টো মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সময় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায় নেমে এলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা দাম বেড়েছে।
সোনালি মুরগির দামও কিছু এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, কোরবানির ঈদের পর সাধারণত মুরগির চাহিদা কমে যায়। ফলে উৎপাদক ও সরবরাহকারীরাও বাজারে কম পরিমাণ পণ্য পাঠান। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
ডিমের বাজারে অবশ্য বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্রেতা কম থাকায় ডিমের বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
সবজির বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, করলা, বেগুন, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ঝিঙা, কচুরলতি ও শসা প্রতি কেজি প্রায় ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দল ও চিচিঙ্গার দাম ৭০ টাকা কেজি। বরবটি, কচুরমুখী ও দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।
মৌসুম শেষ হলেও বাজারে এখনো শিম পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। এছাড়া বাঁধাকপির প্রতিটি ৬০ টাকা, টমেটোর কেজি ১০০ টাকার বেশি, লাউ ৮০ টাকা এবং চালকুমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের বাজারে স্থিতিশীলতা রয়েছে। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা এবং আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিক্রেতারা জানান, ঈদের পর অনেক মাছ ব্যবসায়ী এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। ফলে বাজারে দোকানের সংখ্যা কম হলেও দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। চিংড়ি মাছ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটির প্রভাব পুরোপুরি কেটে গেলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে সবজি ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে আপাতত উচ্চমূল্যের চাপ থেকেই যাচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।