৮৭ তম দ্ল হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠল ব্রাজিল
হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল, প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত প্রতিপক্ষের
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর সমালোচনার মুখে পড়া কার্লো আনচেলত্তির দল এবার হাইতির বিপক্ষে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে সেলেসাওরা, অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।
শনিবার (২০ জুন) ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে ব্রাজিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা হাইতির রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেওয়া শট গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ফিরিয়ে দিলেও রিবাউন্ড থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ম্যাথিউস কুনহা। প্রথম গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আনচেলত্তির শিষ্যরা।
প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে আবারও ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোল করেন কুনহা। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনিয়া। তাঁর জায়গায় নামানো হয় তরুণ উইঙ্গার রায়ানকে।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজেও গোলের দেখা পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা, যা কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার ধরে রাখে ব্রাজিল। ৬৪ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহা ও লুকাস পাকেতার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে এনদ্রিক বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
যদিও দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল পায়নি ব্রাজিল, তবে হাইতিও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। ব্রাজিলের গোলরক্ষক একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন এবং একটি গোললাইন সেভও দলকে স্বস্তি এনে দেয়।
দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিল ও মরক্কো সমান চার পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে আনচেলত্তির দল। অপরদিকে, এক জয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। টানা দুই ম্যাচে হারায় হাইতির শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। প্রথম ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে এই জয় ব্রাজিলকে পরবর্তী পর্বের লড়াইয়ের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দিলেও গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াই এখনও পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে।