সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতি মন্ত্রী
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, কোনো সংস্কৃতি বা সভ্যতা অন্যটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিংবা নিকৃষ্ট নয়। বরং বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির বৈচিত্র্যই মানবজাতির প্রকৃত শক্তি এবং অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। বুধবার (১০ জুন) জাতিসংঘ ঘোষিত প্রথম ‘আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত “ডায়ালগ অব কিনড্রেড স্পিরিটস: চায়না-বাংলাদেশ স্কলার্স ডায়ালগ” শীর্ষক বৈশ্বিক সেমিনার ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাই (এবিসিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, বিভাজন ও ভুল বোঝাবুঝির মুখোমুখি। সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা ও পারস্পরিক দূরত্ব বিশ্বব্যাপী নতুন সংকটের জন্ম দিচ্ছে। এমন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সভ্যতা সংলাপ দিবস বিশ্ববাসীর সামনে সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জ্ঞান বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, সভ্যতার মধ্যে সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই মানবসভ্যতা এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ সবসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমাত্রিক এবং উন্নয়নমুখী সাংস্কৃতিক দর্শনে বিশ্বাস করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ’ (জিসিআই) সভ্যতার বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের যে বার্তা দেয়, তা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশ সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং বিভাজনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেয়।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। প্রাচীন সিল্ক রোড, বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের অবদান এবং ঐতিহাসিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা আজও দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করছে। সময়ের পরিক্রমায় এই সম্পর্ক এখন একটি ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছে।
সেমিনার শেষে সংস্কৃতি মন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন যৌথভাবে বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, শিল্পকর্ম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী চীনা ক্যালিগ্রাফি ও গ্রন্থ প্রদর্শনীও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী, চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী গবেষক ও শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে মন্ত্রী মুক্তচিন্তার বিকাশ, জ্ঞানচর্চা এবং বাংলাদেশ-চীন সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।