৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল মিশর
বিশ্বকাপ ইতিহাসে দীর্ঘ ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো জয়ের দেখা পেয়েছে মিশর। মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশদের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি মিশরের। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ফিন সারম্যান। গোল হজমের পর বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করলেও প্রথমার্ধে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় মিশর।
বিরতিতে এক গোল পিছিয়ে থাকা আফ্রিকার প্রতিনিধিরা দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায়। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেডে গোল করে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। এই গোল মিশরের খেলায় নতুন গতি এনে দেয়। এর মাত্র নয় মিনিট পর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৬৭তম মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণে মোস্তাফা জিকোর কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দৃষ্টিনন্দন শটে নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। সালাহর গোলে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় মিশর।
লিড পাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় লাল জার্সিধারীরা। ৮২তম মিনিটে সালাহর নেওয়া কর্নার থেকে হেডে দলের তৃতীয় গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা ত্রেজেগে। এতে ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় মিশরের। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় মিশর শিবির। কারণ, এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রায় এক শতাব্দীর অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছে। ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও প্রথম আট ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি মিশর। অবশেষে নবম ম্যাচে এসে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিল আফ্রিকার দলটি।
এর আগে চলমান আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিশর। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ইরানের বিপক্ষে ২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। ফলে এই জয়ে গ্রুপ ‘জি’-তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল সালাহরা।