পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারৎ
নিজ দল লেবার পার্টি এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দলীয় এমপিদের একাংশ তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানান।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন লেবার পার্টির অনেক সংসদ সদস্য। এর প্রেক্ষাপটে স্টারমারের ওপর নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ আরও জোরালো হয়। গত শুক্রবার (১৯ জুন) পর্যন্ত তিনি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ঘোষণা দিলেও, সপ্তাহান্তে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা এবং চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সময় কাটানোর পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
জানা গেছে, মন্ত্রিসভার অন্তত অর্ধডজন সদস্য ব্যক্তিগতভাবে স্টারমারকে তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। একই সময়ে তার ঘনিষ্ঠ মহল সম্ভাব্য বিদায়ী ভাষণের খসড়া তৈরির কাজও শুরু করে। সোমবার (২২ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে লেবার পার্টির নতুন নেতা ও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর পথ উন্মুক্ত করেন স্টারমার। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে উত্তরসূরি নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে রিফর্ম পার্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জয় পাওয়ার পর তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন কিয়ার স্টারমার। তার উত্তরসূরিকে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনিশ্চিত পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হবে।