জামালপুর সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, মুখোমুখি অবস্থানে বিজিবি-বিএসএফ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), অন্যদিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফও অবস্থান জোরদার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় পাহারায় অংশ নিয়েছেন।
বুধবার সকালে উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পাঠানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করিয়ে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে রেখে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি)-এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত ব্যক্তি বাংলাদেশমুখী হলে স্থানীয়রা তাকে ফিরিয়ে দেন, আবার ভারতীয় অংশে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা বাধা দেন। এতে সীমান্ত এলাকায় কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ১০টার দিকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক এবং ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি নো-ম্যান্স ল্যান্ডেই অবস্থান করেন। এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে পুশইনের কয়েকটি প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বুধবারও একজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সম্ভাব্য নতুন কোনো পুশইন ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।