স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি, স্বর্ণের দাম বাড়লেও কাটেনি অনিশ্চয়তা
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে-এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সপ্তাহজুড়ে দরপতনের কারণে টানা চতুর্থ সপ্তাহেও স্বর্ণের সাপ্তাহিক মূল্যহ্রাসের আশঙ্কা রয়ে গেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটের বাজার তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭ দশমিক ৬৪ ডলারে। একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহযোগ্য গোল্ড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, সপ্তাহের শুরুতে বিক্রির চাপ থাকলেও বর্তমানে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে এসেছে। সপ্তাহের প্রথম দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের সঙ্গে স্বর্ণের দামের একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক রয়েছে। টিডি সিকিউরিটিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি বাজারে বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসে স্বর্ণের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫৯ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্ল্যাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৩২ দশমিক ৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২১৩ দশমিক ৮৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বর্তমানে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।