‘এলিয়েনরা ইতোমধ্যেই পৃথিবীতে এসেছে’-দাবি স্পিলবার্গের, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
হলিউডের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ভিনগ্রহের প্রাণীকে কেন্দ্র করে আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে আসছেন। এবার বাস্তব জীবনেও এলিয়েনদের অস্তিত্ব নিয়ে নিজের দৃঢ় বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি পরিচালক। তার দাবি, ভিনগ্রহের প্রাণীরা ইতোমধ্যেই পৃথিবীতে এসেছে এবং হয়তো দীর্ঘ সময় ধরেই এখানে অবস্থান করছে।
নতুন বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ডিসক্লোজার ডে’-এর প্রচারণাকে কেন্দ্র করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৯ বছর বয়সী স্পিলবার্গ বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে পৃথিবীতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের উপস্থিতি রয়েছে। তার ভাষায়, বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রামাণ্যচিত্র এবং মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্য থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশ্বাস গড়ে উঠেছে।
তবে স্পিলবার্গের এমন মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেও বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। যুক্তরাজ্যের কিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. জ্যাকো ভ্যান লুন মনে করেন, ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, যদি কোনো উন্নত সভ্যতা বহু আগে পৃথিবীতে এসে থাকে, তাহলে তারা হয়তো এমন কোনো চিহ্ন রেখে যায়নি যা বর্তমানে শনাক্ত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর পরিবর্তে চাঁদ কিংবা সৌরজগতের অন্য কোথাও পর্যবেক্ষণযন্ত্র বা নিদর্শন রেখে যাওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে নাকচ করা যায় না। অন্যদিকে, বিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশ মনে করেন, মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব হলেও উন্নত ভিনগ্রহের সভ্যতার পৃথিবীতে এসে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ, নক্ষত্রগুলোর মধ্যে দূরত্ব এতটাই বিশাল যে বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে তা অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব।
লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. থমাস হাওয়ার্থের মতে, মানবজাতির সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান দিয়েও নিকটতম নক্ষত্রে পৌঁছাতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগবে। ফলে আন্তঃনাক্ষত্রিক ভ্রমণ শুধু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জই নয়, এটি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গেও জড়িত।হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. উইলিয়াম অ্যালস্টন বলেন, আলোর গতিই মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গতি সীমা। ভরযুক্ত কোনো বস্তুর পক্ষে এর চেয়ে দ্রুত চলা সম্ভব নয়, ফলে ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসা সহজ কোনো বিষয় নয়।
এদিকে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এসইটিআই গবেষক অধ্যাপক মাইকেল গ্যারেট স্পিলবার্গের মন্তব্যকে বৈজ্ঞানিক তথ্যের বদলে ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে দেখছেন। তার মতে, মহাবিশ্বে অসংখ্য গ্রহ থাকলেও এলিয়েনরা বিশেষভাবে পৃথিবীকেই বেছে নেবে-এমন ধারণার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের মতে, এখনো পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা নিশ্চিতভাবে ভিনগ্রহের প্রাণীর পৃথিবীতে আগমনকে সমর্থন করে। আধুনিক রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমেও উন্নত কোনো সভ্যতার সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যারল অলিভার বলেন, আকাশে অস্বাভাবিক কোনো আলোর উপস্থিতি বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু দেখা গেলেই সেটিকে এলিয়েনের সঙ্গে যুক্ত করার আগে আরও যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে দেখা উচিত। বিজ্ঞানীদের অভিমত, মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা অস্বীকার করা না গেলেও পৃথিবীতে ভিনগ্রহের প্রাণীর আগমনের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।