তেলাপোকা দিয়ে ভারতের রাজনীতিতে ঝড়, কে এই অভিজিৎ দীপকে?
ভারতের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তরুণ সমাজকর্মী ও ডিজিটাল প্রচারক অভিজিৎ দীপক। ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক প্রচারণা, ব্যঙ্গাত্মক বার্তা এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশটির তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। মহারাষ্ট্রের একটি দলিত পরিবারে জন্ম নেওয়া অভিজিৎ দীপকের শৈশব কেটেছে সামাজিক বৈষম্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। সীমাবদ্ধতার সেই পরিবেশ থেকে উঠে এসে তিনি এখন ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় এক পরিচিত নাম। অনেক তরুণের কাছে তিনি বঞ্চনা, ক্ষোভ ও হতাশার প্রতীকী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তার সামনে এমন কোনো আদর্শ ব্যক্তি ছিলেন না, যাকে অনুসরণ করে জাতীয় নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখা যায়। শুরুতে প্রকৌশল শিক্ষার পথে থাকলেও পরে তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাকে পেশাগত লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন। পুনেতে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের Boston University-তে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নকালে তিনি রাজনৈতিক যোগাযোগ, জনমত গঠন এবং ডিজিটাল প্রচারণার আধুনিক কৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করেন। এই সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখার সুযোগ পান তিনি। এর আগে ভারতে অবস্থানকালে তিনি Aam Aadmi Party-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে মিম, ব্যঙ্গ ও সৃজনশীল ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দিল্লির নির্বাচনী প্রচারণার অনলাইন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারত্ব এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তরুণদের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ধারণা সামনে আনেন অভিজিৎ দীপকে। মূলত ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক বার্তা ও ডিজিটাল আন্দোলনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং কোটি তরুণের নজর কাড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজিৎ দীপকের জনপ্রিয়তা ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে রাজনৈতিক পরিবার, অর্থনৈতিক প্রভাব বা সাংগঠনিক শক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগ দক্ষতা, সামাজিক অসন্তোষকে সংগঠিত করার ক্ষমতা এবং তরুণদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।