৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভেনেজুয়েলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ Venezuela-এ মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্প দুটির পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুই অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকা। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। United States Geological Survey জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ইউমারে শহরের প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।
ভূমিকম্পের পরপরই Tsunami Warning System ভেনেজুয়েলা, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
দেশটির রাজধানী Caracas-এ একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধারকর্মীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট Delcy Rodríguez জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন জেনারেলকে দায়িত্ব দেন এবং দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী Colombia-তেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এদিকে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Diosdado Cabello নাগরিকদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি এলাকায় আগেভাগেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কারাকাসে অবস্থিত U.S. Embassy in Venezuela জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। কোথাও কোথাও ঘরের আসবাবপত্র ও কাচের আলমারি তীব্রভাবে কাঁপতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাসে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সে সময় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবারও রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কারাকাস মহানগর এলাকার চাকাও অঞ্চলের মেয়র Gustavo Duque Sáez জানিয়েছেন, তার এলাকায় অন্তত দুটি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫০০-এর বেশি জরুরি কর্মী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।