ফলন ভালো হলেও শ্রমিক আর উৎপাদন ব্যয় নিয়ে বিপাকে কৃষকরা।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ পুরো জেলায় উৎসবের আমেজে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। মাঠে মাঠে কৃষক-কৃষাণির ব্যস্ততা ও কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ। তবে একদিকে যেমন ধান কাটা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি এবং ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। জেলা ও হাওরাঞ্চলের ইটনা, অষ্টগ্রাম, মিঠামইনসহ নিকলী, বাজিতপুর, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও কটিয়াদীসহ বিভিন্ন উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। খোলা মাঠ, বাড়ির আঙিনা ও হাওরের বিস্তীর্ণ চত্বরে ধান মাড়াই, শুকানো ও গোলায় তোলার কাজ চলছে পুরোদমে। কোথাও শ্রমিকরা ধান কাটছেন, কোথাও বোঝা মাথায় করে ধান বহন করছেন, আবার কোথাও মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমজীবীরা।
একই সঙ্গে চলছে ধান পরিবহন, সেদ্ধ করা ও শুকানোর নানা কাজ। অনেক জায়গায় ধান মাড়াইয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার হলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনো শ্রমিক নির্ভর কাজ চলছে। কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাইরে থেকে শ্রমিক না আসায় স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে দৈনিক প্রায় এক হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে ধানের বাজারমূল্য কম থাকায় কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভেজা ধান শুকাতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় তারা কম দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। মিল মালিকরাও এখনো ধান কেনা শুরু না করায় বাজারে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম না বাড়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিকলী এলাকার কৃষকরা বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি মজুরি দিয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রের ঘাটতিও সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরেক কৃষক জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। নৌকা, ট্রলার ও যানবাহনের ভাড়া বাড়ায় ধান বাড়িতে আনা এবং বাজারে নেওয়ার খরচও অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হাওরাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে প্রতি বছরই চাপ থাকে। ধান নির্দিষ্ট পর্যায়ে পাকলেই দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কমানো যায়। বর্তমানে হাওরে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার জেলায় প্রায় এক লাখ আটষট্টি হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি ও শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার অস্থিরতায় কৃষকরা চাপের মুখে রয়েছেন।