দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে দায়িত্ব পালন করা সেনাবাহিনী এখন ব্যারাকে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকা বাহিনীটি দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মাঠে নামে। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সিভিল প্রশাসনের অনুরোধে ‘সিভিল প্রশাসন সহায়তা কার্যক্রম’-এর আওতায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর থেকে টানা প্রায় ২০ মাস ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে তারা নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ৫০টিতে সেনা ক্যাম্প রয়েছে। রাজধানী ও এর আশপাশেই সবচেয়ে বেশি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। শুরুতে দেশজুড়ে দুই শতাধিক ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে নির্বাচনের পর অনেক ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়।
মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী সন্ত্রাস দমন, অস্ত্র উদ্ধার, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, চেকপোস্ট পরিচালনা, মহাসড়কে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার ও হাজার হাজার সন্দেহভাজন অপরাধীকে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তারা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনা কর্মকর্তাদের কিছু সময়ের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।
বর্তমানে সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা সেনাবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ব্যারাকে ফিরে যেতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের বেশিরভাগ সেনা সদস্য ব্যারাকে ফিরে গেলেও প্রায় ১৫ হাজার সদস্য এখনো স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠের দায়িত্ব শেষ করে ব্যারাকে ফিরে যাবে।