যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তে ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সরকার সম্মত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলোচনার জন্য সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের ওপর সামরিক হামলা স্থগিত রাখবে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে অবরোধ অব্যাহত থাকবে-যা ইরানের দৃষ্টিতে যুদ্ধের সমতুল্য পদক্ষেপ।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ-এর এক উপদেষ্টা বলেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হতে পারে।
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর আগে তিনি ইরানের অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, আবার কখনো শান্তি আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। সর্বশেষ ঘোষণায় তিনি আবারও সামরিক হামলা থেকে সরে এসে আলোচনার পথ খোলা রাখেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি উপসাগরীয় অঞ্চল ও লেবাননে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই মাসের এই সংঘাতে পাঁচ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরান আগেই জানিয়েছে, চাপ ও অবরোধের মধ্যে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও অবরোধ শিথিলের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা ইতিবাচক হলেও অবরোধ অব্যাহত থাকায় প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।