মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন একজন নারী। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহারা আল মনসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হলেন। এর আগে তিউনিসিয়ায় নাজলা বুদেন ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আল মনসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। এর আগে তিনি মরক্কোর নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগর নীতিবিষয়ক মন্ত্রী এবং ম্যারাকাশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশটির অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টির (পিএএম) শীর্ষ নেতৃত্বেরও একজন।
নিয়োগ পাওয়ার পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আল মনসুরি এটিকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এটি শুধু তার নিজের জন্য নয়, দেশের সব নারীর জন্যও গর্বের বিষয়।
জোট গঠনই প্রথম চ্যালেঞ্জ
গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে আল মনসুরির দল পিএএম সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে দলটি ৯৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসনের চেয়ে তা অনেক কম। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতা করে জোট সরকার গঠন করতে হবে।
নির্বাচনে ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেনডেন্টস (আরএনআই) ৬৬টি এবং ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন পেয়েছে। জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) পেয়েছে ৫৪টি আসন। পিজেডি ও ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফটসহ কয়েকটি দল ইতোমধ্যে বিরোধী দলে থাকার কথা জানিয়েছে।
পিএএম ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে জোট গঠন ছাড়াও অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জনসেবা এবং বড় অবকাঠামো বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২০৩০ বিশ্বকাপ সামনে রেখে বড় বিনিয়োগ
মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল যৌথভাবে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে দেশটিতে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে এসব বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন।
নির্বাচনের পর গঠিত সরকারকে একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক চাহিদা নিয়েও কাজ করতে হবে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৩৮ শতাংশে নেমে আসায় দেশটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আইনজীবী থেকে মেয়র, এবার প্রধানমন্ত্রী
১৯৭৬ সালে ম্যারাকাশে জন্ম নেওয়া ফাতিমা জাহারা আল মনসুরি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাংলো-স্যাক্সন ব্যবসায়িক আইনে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
২০০৯ সালে তিনি ম্যারাকাশের মেয়র নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে তিনি শহরটির প্রথম নারী মেয়র হওয়ার ইতিহাস গড়েন। পরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে তিনি জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন, আবাসন ও নগর নীতিবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে ম্যারাকাশের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এবার দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে মরক্কোর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন আল মনসুরি। তবে তার সামনে প্রথম কাজ হবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা।
#Morocco #FatimaMansouri #WomenLeadership