সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানিয়েছেন নিহত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে হলফনামার মাধ্যমে তিনি এ অনাপত্তির কথা জানান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আদালতকে বলেন, আপসের শর্তে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা এ মামলায় গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামের আরও চার দিনের রিমান্ড হয়। দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন মরিয়মের বাবা। পরিবারের সদস্যদের কাছে মরিয়ম এসব নির্যাতনের কথা ফোনে জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে তাঁর বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে তাঁর বিছানার ওপর একটি হাতে লেখা ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে স্বামীকে উদ্দেশ করে বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের কথা লেখা ছিল বলে দাবি করা হয়।
মরিয়মের বাবার অভিযোগ, ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। পরবর্তী সময়ে স্বামী ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাঁদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
মামলার অপর আসামি মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়।