মাগুরার ঐতিহাসিক নোমানী ময়দান শুধু একটি খেলার মাঠ নয়। এটি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের অন্যতম প্রধান উন্মুক্ত স্থান। প্রতিদিন কিশোর-তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ এখানে খেলাধুলা করেন। আশপাশের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও বিকেলে মাঠটি ব্যবহার করে।
কিছুদিন আগে মাঠের পরিবেশ, উন্মুক্ততা ও খেলাধুলার পরিসর অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাঠের এক পাশে থাকা ফুডকার্টগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। মাঠ রক্ষার স্বার্থে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান করি। তবে এর সঙ্গে একটি স্বাভাবিক প্রশ্নও সামনে আসে মাঠের জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে নীতি ফুডকার্ট ব্যবসায়ীদের জন্য প্রযোজ্য, একই নীতি কি অন্য যেকোনো স্থাপনার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে?
ক্রীড়াবিদ মইনুল ইসলাম, রাশেদ খান, তানিয়া হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ফুডকার্টগুলোর সঙ্গে অনেক তরুণের কর্মসংস্থান এবং কিছু পরিবারের জীবিকা জড়িত ছিল। মাঠের স্বার্থে তাদের ব্যবসা সরিয়ে নেওয়া যদি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রেও মাঠের স্বার্থকে একই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এখানেই আসে বিকল্প জায়গার বিষয়টি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ঠিক বিপরীত দিকে মাগুরা এজি একাডেমির একটি বড় মাঠ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের বড় একটি সময় সেখানে পানি জমে থাকে। সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজও চলছে। পর্যাপ্ত বালুমাটি দিয়ে মাঠটি উঁচু করা, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি এবং সংস্কারের মাধ্যমে সেটিকে ব্যবহার উপযোগী করার সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে। একইভাবে সেখানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
মাগুরার মিনি স্টেডিয়াম নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সেখানে ব্যয় করা অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও মাঠের বর্তমান অবস্থা নিয়েও মানুষের মধ্যে আলোচনা আছে। ফলে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে বিদ্যমান জায়গাগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারযোগ্য করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন হলো- বিকল্প জায়গা থাকা সত্ত্বেও নোমানী ময়দানেই কেন বারবার স্থাপনা নির্মাণের চিন্তা করা হচ্ছে? এই প্রশ্নের একটি স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা মাগুরাবাসী প্রত্যাশা করে।
আমরা কোনো উন্নয়ন বা প্রশাসনিক উদ্যোগের বিরোধিতা করছি না। আমাদের দাবি একটাই, যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, তা হতে হবে স্বচ্ছ, যুক্তিসঙ্গত এবং সবার জন্য সমান নীতির ভিত্তিতে।
নোমানী ময়দানের উন্মুক্ততা, খেলাধুলার পরিবেশ এবং ঐতিহ্য যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে আইন, নীতিমালা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকলে তা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার ধরন বিবেচনা না করে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
একই মাঠ, একই আইন কিন্তু প্রয়োগেও কি থাকবে একই মানদণ্ড?