ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের ওপর সাঁজোয়া যান চালিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ হিসেবে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় হুথিদের কাছ থেকে কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখলের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়। রয়টার্স ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে।
ভিডিওতে সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে ধারণ করা দৃশ্যে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দৌড়াতে ও হাঁটতে দেখা যায়। একই সঙ্গে কয়েকজনকে নিরস্ত্র অবস্থায় মাটিতে বসে, শুয়ে বা কুঁকড়ে থাকতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে একটি সাঁজোয়া যান দৌড়ানো এক নিরস্ত্র ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর মাটিতে পড়ে থাকা আরেক ব্যক্তির ওপর দিয়ে যানটি চলে যায়। পরে যানটি ঘুরে এসে হাত উঁচু করে থাকা আরও দুজন নিরস্ত্র ব্যক্তির ওপর দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে গুলির শব্দও শোনা যায়। একপর্যায়ে সাঁজোয়া যানের সামনের কাচে গুলি আঘাত করার দৃশ্যও রয়েছে।
ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে হুথিরা অভিযোগ করেছে, ভিডিওতে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ও তাদের সঙ্গে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আচরণের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
তবে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া সরকারি বাহিনীর অন্যতম প্রধান ইউনিট জায়ান্টস ব্রিগেডের মুখপাত্র আসিল আল-সাকলাদি জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তার দাবি, ঘটনাস্থলে থাকা হুথি যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করেছে—এমন তথ্য বাহিনীকে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের কয়েকজন সরকারি বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ভিডিও এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইয়েমেনের সরকারি সামরিক জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস মঙ্গলবার তাদের সদস্যদের বন্দিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার এবং ধর্মীয়, নৈতিক ও আইনি নীতিমালা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে সংঘর্ষ মঙ্গলবারও চলেছে। ইয়েমেনের সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকারি বাহিনী ওই এলাকায় হুথিদের একটি সামরিক ঘাঁটি ঘেরাও করে পূর্ব দিকে পাহাড়ি এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছে।
তবে সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রার ব্যাপ্তি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। হুথিরাও সরকারি বাহিনীর সাফল্যের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড হারায়নি।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিশ্লেষক আহমেদ নাজির মতে, সাম্প্রতিক অভিযান হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘ সংঘাতের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় সরকারি বাহিনী কতটা অগ্রসর হতে পারে, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স