ধান কাটার পর ফাঁকা পড়ে থাকা জমিতে এবার আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বাড়তি খরচ ও ঝুঁকি নিয়েই জমিতে আলু রোপণ শুরু করেছেন তারা। আগের মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার প্রত্যাশা অনেক কৃষকের।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে মাঠে চলছে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও আলুর বীজ রোপণের কাজ। পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও এসব কাজে উল্লেখযোগ্যভাবে অংশ নিচ্ছেন। ফলে কৃষিকাজকে ঘিরে স্থানীয় শ্রমবাজারেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বর্তমানে ফুলবাড়ীতে পুরুষ শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৭৫০ হেক্টর। এ খাত থেকে ১৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ধান কাটার পর কৃষকরা স্টারিক, রোমানাসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের আলু জমিতে রোপণ করছেন।
আগাম আলু চাষে সাধারণ সময়ের তুলনায় শুরুতেই বিনিয়োগ করতে হয় বেশি। জমি ইজারা, বীজ, সার, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন কৃষকরা।
শিবনগর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের চুক্তিভিত্তিক চাষি আব্দুল জব্বার জানান, তিনি দুই বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে আগাম আলু চাষ শুরু করেছেন। উৎপাদন ভালো হলে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি লাভের আশা করছেন তিনি।
একই ইউনিয়নের কয়রাকোল গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, গত মৌসুমে আগাম আলু তুলে মৌসুমের শুরুতেই প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। এতে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার ৪০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করছেন তিনি।
তবে আগাম আলু চাষে লাভের পাশাপাশি রয়েছে ঝুঁকিও। খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের আম্রবাড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর আলু চাষ করে লোকসান হয়েছে তার। এরপরও আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবারও আগাম আলু চাষে বিনিয়োগ করেছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, আগাম আলু চাষে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আবহাওয়া ও মৌসুমের শুরুতে বাজারদর। অতিরিক্ত বৃষ্টি, রোগবালাই কিংবা হঠাৎ বাজারদর কমে গেলে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। আবার মৌসুমের শুরুতে চাহিদা ও দাম ভালো থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য লাভের সুযোগ তৈরি হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় ফুলবাড়ীতে আগাম আলু চাষ ও উত্তোলন তুলনামূলক আগে শুরু হয়। ফলে মৌসুমের শুরুতেই এখানকার আলু দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পেতে পারেন।
তিনি জানান, আগাম আলু চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া গেলে এবার আগাম আলু চাষের মাধ্যমে কৃষকরা আগের লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অরণ্য/ কৃষি/ ০৬ অক্টোবর ২৬