মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশু। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও ভাসানচরের ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর জীবন নানা সংকটে জর্জরিত। খাদ্য ও স্বাস্থ্যসংকটের পাশাপাশি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, অপুষ্টি, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, নির্যাতন ও অপহরণের ঝুঁকি তাদের স্বাভাবিক শৈশবকে বিপন্ন করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম এবং ইতিবাচক অভিভাবকত্বের উদ্যোগ কিছু শিশুর জীবনে আশার আলো দেখাচ্ছে।
রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য শিক্ষা শুধু ভবিষ্যৎ গড়ার মাধ্যম নয়, নির্যাতন, শোষণ ও অপরাধের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আন্তর্জাতিক সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শিবিরের ১০ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত চার লাখ শিশু স্কুলগামী।
তবে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষার সুযোগ সীমিত। ২০২৫ সালের জুনে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ সতর্ক করে জানায়, অর্থসংকটের কারণে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা কার্যক্রম গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পড়াশোনা করা শিশুদের অন্তত ৮৩ শতাংশ এই সংকটের সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়ে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও অর্থের অভাবে ছোট শিশুদের জন্য নতুন পাঠ্যবই ও শিক্ষকদের নির্দেশিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরোনো বই, সীমিত পাঠ্যসূচি ও স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের সহায়তায় কোনোভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ক্যাম্পের দুই হাজার ৫১টি শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৪টি মেরামতের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে মেরামত করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ২০০টি। জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ অবস্থার কারণে ২৮৬টি কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার ৩৯৭টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রয়োজনীয় অর্থের অপেক্ষায় রয়েছে।
তৎকালীন ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, এসব শিশু বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্যতম। দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থায়ন না এলে শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে একটি পুরো প্রজন্ম স্থায়ীভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে।
ইউনিসেফ পরিচালিত শিক্ষা খাতের কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে তিন লাখ দুই হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী যুক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ জন মেয়েশিশু। এ ছাড়া দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ শিশু কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে পড়াশোনা করছে।
এই কার্যক্রমে আশার খবরও রয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৭ জন রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী সফলভাবে দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সহযোগিতায় ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এক হাজার ১০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষককে আনুষ্ঠানিক পেশাগত প্রশিক্ষণের সনদ দিয়েছে।
তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি বড় একটি জনগোষ্ঠী শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। পাঁচ থেকে ১৮ বছর বয়সী অন্তত এক লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু বর্তমানে কোনো ধরনের সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছে না। তাদের কেউ কেউ বেসরকারি শিক্ষাকেন্দ্র বা স্থানীয় কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।
রোহিঙ্গা শিবিরে মেয়েশিশুদের শিক্ষার পথে সামাজিক রক্ষণশীলতা, পারিবারিক অনীহা, যাতায়াতের নিরাপত্তা এবং শিক্ষাকেন্দ্রের দূরত্ব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর অনেক মেয়েকে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়।
ক্যাম্প-১৭-এর কিশোরী রাজুমার অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। ছেলে ও মেয়েদের একই শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর ব্যবস্থা থাকায় সামাজিক বাধার মুখে তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল। পরে শুধু মেয়েদের জন্য আলাদা শিফট বা ক্লাসের ব্যবস্থা করা হলে সে আবার শিক্ষাকেন্দ্রে ফিরে আসে।
এই অভিজ্ঞতা দেখায়, শুধু শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেই শিশুদের বিদ্যালয়মুখী রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য নিরাপদ, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
একটি শ্রেণিকক্ষে ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র তিনজন মেয়ে। তাদের একজন ১৪ বছর বয়সী সালমা। নানা বাধা পেরিয়ে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমে পড়ার সুযোগ পাওয়াকে সে বড় অর্জন মনে করে। তবে শিক্ষাকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মনে উদ্বেগও রয়েছে। অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে কি না, সেই আশঙ্কা তাকে তাড়া করে ফেরে।
সালমার কাছে শিক্ষাকেন্দ্র কেবল পড়াশোনার জায়গা নয়। এটি সহপাঠীদের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখারও একটি পরিসর।
১২ বছর বয়সী মেহেরজানও শিবিরের অনিশ্চিত জীবনকে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দিতে চায় না। বাড়িঘর হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবনে বেড়ে উঠলেও সে নিয়মিত ক্লাসে যাচ্ছে। তার কাছে শিক্ষা বইয়ের পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠারও একটি পথ।
ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে আর্থিক অনটন, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের প্রভাব পড়ে পারিবারিক জীবনে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের হতাশা ও রাগের শিকার হয় শিশুরা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিসেফ ও সহযোগী সংস্থাগুলো ‘পজিটিভ প্যারেন্টিং’ বা ইতিবাচক অভিভাবকত্ব বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
চার সন্তানের বাবা ৩৮ বছর বয়সী হাবি মোহাম্মদ জানান, সংসারের নানা চাপ সামলাতে গিয়ে সন্তানদের অনুভূতি বোঝার দিকে আগে তেমন নজর দিতেন না। নিজের রাগ ও হতাশা সন্তানদের ওপর প্রকাশ করতেন। ২০২৫ সালে বাবাদের জন্য আয়োজিত অভিভাবকত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার পর তাঁর চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে।
হাবি বলেন, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে ইউসুফ পড়াশোনায় অমনোযোগী হলে তিনি তাকে বকাঝকা করতেন, এমনকি মারধরও করতেন। তাঁর ধারণা ছিল, ভয় দেখালে সন্তান পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। কিন্তু প্রশিক্ষণ থেকে তিনি শিখেছেন, মারধর না করে ধৈর্যের সঙ্গে সন্তানকে বোঝানো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রায় ২৮ হাজার অভিভাবক, পরিচর্যাকারী এবং সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি মা ও নারী পরিচর্যাকারী, ১৩ হাজারের বেশি বাবা ও পুরুষ পরিচর্যাকারী এবং প্রায় এক হাজার ৮০০ জন সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা রয়েছেন।
জার্মানির BMZ/KfW-এর অর্থায়নে ইউনিসেফ ও সহযোগী সংস্থাগুলো এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (ব্র্যাক আইইডি) কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত এসব সেশনে শিশুর সুস্থ বিকাশ, অহিংস পদ্ধতিতে সন্তান লালন-পালন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শিশুদের মানসিক ও আবেগীয় সুস্থতার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কমিউনিটি আউটরিচকর্মী মোহাম্মদ শাহেদুল মুস্তফা বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাবারা বুঝতে পারছেন, সন্তান লালন-পালন শুধু মায়েদের দায়িত্ব নয়। সংসারের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সন্তানকে উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অভিভাবক মোহাম্মদ আমিন জানান, শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিনের গুরুত্ব এবং মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি নতুনভাবে জানতে পেরেছেন। শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্বও তিনি প্রশিক্ষণ থেকে উপলব্ধি করেছেন।
পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রশিক্ষণ নেওয়া মা নূরবাহারও। তিনি জানান, শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জেনেছেন। পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে অন্য অভিভাবকদেরও সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, শিক্ষা মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হতে এবং নিজেদের অধিকার বুঝতে সহায়তা করে।
রোহিঙ্গা শিবিরে শিশু সুরক্ষায় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা ধর্মীয় নেতা নূর হোসেন জানান, মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ, বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব এবং নিরাপদ প্রসবের গুরুত্ব নিয়ে তিনি এখন অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের গর্ভধারণে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তাই জুমার বয়ানসহ বিভিন্ন সামাজিক পরিসরে তিনি অভিভাবকদের বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো বোঝানোর চেষ্টা করেন। কন্যাশিশুদের স্কুলে পাঠানো, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ প্রসব এবং জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তিনি।
এ ধরনের উদ্যোগ রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মধ্যে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। তবে এসব পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সামাজিক পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শিক্ষার বাইরে থাকা রোহিঙ্গা শিশুরা শুধু জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হারাচ্ছে না; তাদের একটি অংশ নানা ধরনের শোষণ ও অপরাধের ঝুঁকিতেও পড়ছে।
২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের যৌথ সুরক্ষা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শিবিরের ৩৩টি এলাকাতেই শিশুরা শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অপহরণ এবং সশস্ত্র অপরাধী চক্রে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে ১৬টি দলগত আলোচনায় ১৮১ শিশুর মতামত নেওয়া হয়। তাদের প্রায় ৭২ শতাংশ জানিয়েছে, শিবিরে শিশুশ্রম একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানো, চরম দারিদ্র্য এবং শিক্ষার সীমিত সুযোগের কারণে অনেক শিশু জীবিকার তাগিদে শ্রমে যুক্ত হচ্ছে।
একই আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রায় ৬৪ শতাংশ শিশু তীব্র মানসিক আঘাত ও অবহেলার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, পারিবারিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতা তাদের মানসিক সুস্থতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
রোহিঙ্গা শিশুদের সংকট বহুমাত্রিক। শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং নির্যাতন থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষ করে অর্থসংকটে শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শিক্ষাকেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং মেয়েশিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে শিশু সুরক্ষার উদ্যোগে যুক্ত রাখা জরুরি। ইতিবাচক অভিভাবকত্বের মতো কর্মসূচি পরিবারে আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ দিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট কাটানো সম্ভব নয়।
মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শৈশব রক্ষা করতে হলে আশ্রয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন শেখার সুযোগ, নিরাপত্তা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বাস্তব সম্ভাবনা।
অরণ্য: ১১.১০.২৬