বাঙালির উৎসব মানেই আনন্দ, সাজসজ্জা আর প্রিয়জনের জন্য উপহার কেনার ব্যস্ততা। আর দুর্গাপূজার আনন্দে নতুন পোশাকের সঙ্গে সোনার গয়নার আকর্ষণও কম নয়। কানের দুল, গলার হার কিংবা হাতের চুড়িতে সোনার ঝলক নারীর সাজে যোগ করে পূর্ণতা। ঐতিহ্য আর আবেগের মেলবন্ধনে বাঙালি নারীর অলংকারের প্রতি এই টান যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এমন উৎসবের আবহে স্বর্ণের দাম কমার খবরে গয়না কেনার পরিকল্পনাকারীদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও প্রায় প্রতিদিনই ওঠানামা করছে স্বর্ণের দাম। সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকায়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।
পূজার কেনাকাটায় কতটা প্রভাব ফেলবে দাম কমা?
দুর্গাপূজাকে ঘিরে নতুন পোশাক, প্রসাধনী ও উপহারসামগ্রী কেনার পাশাপাশি অনেকে স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনাও করেন। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যদের জন্য গয়না কেনা কিংবা পুরোনো গয়না বদলে নতুন নকশার অলংকার নেওয়ার আগ্রহ থাকে অনেকের।
স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমায় কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতার জন্য স্বর্ণালংকার কেনা এখনো বড় ব্যয়ের বিষয়। ফলে দাম কমলেও সবার কেনাকাটায় এর প্রভাব সমান হবে না। যাঁরা আগে থেকেই গয়না কেনার পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের কাছে এই মূল্যহ্রাস বাড়তি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রুপার দাম কত?
স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে নির্ধারিত রয়েছে রুপার দামও। বাজুসের মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি ২ হাজার ৬২৪ টাকা।
গয়না কেনার আগে যা জানা জরুরি
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।
এ ছাড়া মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে পুরোনো অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
পূজার আনন্দে নতুন গয়না কেনার পরিকল্পনা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের জন্য স্বর্ণের দাম কমার খবর নিঃসন্দেহে কিছুটা স্বস্তির। তবে কেনাকাটার চূড়ান্ত ব্যয় নির্ভর করবে গয়নার ওজন, নকশা, মজুরি ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে সামর্থ্যের সমন্বয় রেখেই কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে ক্রেতাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।