২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইকে অভিনন্দন জানায়নি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। পুরস্কার ঘোষণার চার দিন পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অভিনন্দনবার্তা না আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ নীরবতা কি না, সে প্রশ্নও তুলেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। গণহত্যা ও বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কাজ করা এই আইনজ্ঞ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনসহ আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
১৯৯৫ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছিলেন পিল্লাই। এর মধ্যে চার বছর ট্রাইব্যুনালটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কমিশনটি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে ইসরায়েল ওই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে।
পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইসরায়েল সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পিল্লাইয়ের বিরুদ্ধে ইহুদিদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগও করেন তিনি।
দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ভারতের অবস্থান নিয়ে মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ভারত ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম ও বেড়ে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের ক্লেয়ারউড এলাকায়। তাঁর পূর্বপুরুষদের ইতিহাস ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে শ্রমিক হিসেবে আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া ভারতীয়দের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর নোবেলজয়কে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর অনেকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়সহ ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও অতীতে সরব ছিলেন পিল্লাই। ২০১২ সালে দিল্লিতে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছেন এই আইনজ্ঞ।
দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নাভি পিল্লাইকে অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।