ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সৌদি আরবের সমর্থন চেয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম *হারেৎজ*।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগর এলাকায় হুতিবিরোধী অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সৌদি সমর্থন আদায় করা। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরির আশঙ্কায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইয়েমেনে হুতিবিরোধী যুদ্ধে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেন।
এর আগে আব্রাহাম চুক্তির কাঠামোর আওতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তবে সৌদি আরবের অবস্থান হলো, ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকতে হবে।
*হারেৎজের* প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে সংঘাত বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযানে যুক্ত করার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হয়ে হুতি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা ও লোহিত সাগরের কয়েকটি দ্বীপ দখল করে। পরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে থাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে মোখা পুনর্দখল করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের হামলা নিয়েও উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত হওয়ার খবরও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব হামলা ও হতাহতের বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
রিয়াদে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে নেতানিয়াহু হামলার নিন্দা জানান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।