শিশুর শরীর অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা কোনো আঘাত ছাড়াই শরীরে কালশিটে দাগ পড়াকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে এড়িয়ে যান অনেক অভিভাবক। তবে এসব উপসর্গ কখনো কখনো শিশুদের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। তাই লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার দেখা দিলে কিংবা একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর শূন্য থেকে ১৯ বছর বয়সী আনুমানিক চার লাখ শিশু-কিশোর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। শিশুদের মধ্যে লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসার, মস্তিষ্কের টিউমারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার দেখা যায়।
শিশুদের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে মিলে যায়। তাই একটি উপসর্গ দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিচের লক্ষণগুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন—
- অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং দুর্বলতা।
- শরীর অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
- কোনো আঘাত ছাড়াই বারবার কালশিটে দাগ পড়া।
- শরীরে গুটি বা ফোলা দেখা দেওয়া এবং ধীরে ধীরে তা বড় হওয়া।
- দীর্ঘদিন জ্বর থাকা।
- বারবার বা তীব্র মাথাব্যথা।
- হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
- কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শিশুদের ক্যানসার সাধারণত নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগে শনাক্ত করা কঠিন। এ কারণে সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা, সঠিক রোগনির্ণয় এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে, রোগ শনাক্তে বিলম্ব, ভুল রোগনির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়া শিশু ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। বিপরীতে, অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এই হার ৩০ শতাংশেরও কম। এই বৈষম্য কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
শিশুর কোনো একটি উপসর্গ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। এসব লক্ষণের পেছনে রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগও থাকতে পারে। তবে উপসর্গ বারবার দেখা দিলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে বা সময়ের সঙ্গে তীব্রতা বাড়লে অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষ করে অকারণে রক্তপাত, দ্রুত বাড়তে থাকা গুটি, তীব্র বা ক্রমবর্ধমান মাথাব্যথা কিংবা শিশুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।
শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতনতা, লক্ষণ পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অরণ্য নিউজ/ ১২.১০.২৬