সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এ হামলায় একজন নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক। ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে।
হামলার সময় বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারও ছিল বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথি মুখপাত্র আরও বলেছেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে তাদের অভিযান জোরদার করা হবে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্যান্য বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে হামলার জবাবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের ৪ নম্বর যাত্রী টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুন লাগার ঘটনায় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও।
হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চার নাগরিক এবং বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিক পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন। তাদের দাবি, একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশু নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি। বিবিসিও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ওই আলোচনায় সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা ও সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের হুমকিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং ওই অঞ্চলে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তায় নতুন করে প্রভাব পড়তে পারে।