আইনি জটিলতায় সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মগবাজার-পেয়ারাবাগ অংশের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে। একই সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের নিচ দিয়ে চার লেনের রেলপথ নির্মাণকাজেও আর আইনি বাধা থাকছে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদেশের পর এ তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রেলওয়ের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ দুই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। জমির একটি অংশের মালিকানা দাবি করে আসছিলেন এ এম মোস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে, সরকার জমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের বলে দাবি করে আসছে।
এ এম মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালে জমির মালিকানা নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁর পক্ষে রায় হয়। পরে সরকারের পক্ষ থেকে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হলে গত সেপ্টেম্বরে রায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে যায়।
এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন এ এম মোস্তাফিজুর রহমান। গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। এতে মগবাজার-পেয়ারাবাগ অংশে এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেনের রেলপথ নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
হাইকোর্টের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়। ফলে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চললেও উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে আর বাধা থাকছে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, জমির মালিকানা নিয়ে এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি এবং ক্ষতিপূরণ বা অ্যাওয়ার্ড মানি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উসমান চৌধুরী। এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নুরুল আমিন।