হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। জাহাজ দুটিতে কী ধরনের বস্তু আঘাত হেনেছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে ইরানের হামলা জোরদারের মধ্যেই নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খবর সিএনএনের।
সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় হামলার শিকার হয়। পরে জাহাজটিতে আগুন ধরে সেটি ডুবে যায়। তবে জাহাজটির সব ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জাহাজটি থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরবর্তী ফুটেজ ও স্যাটেলাইট চিত্রে পানিতে ভাসমান মালামাল এবং সামান্য তেলের আস্তরণ দেখা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি, অননুমোদিত একটি পথে চলাচলের সময় জাহাজটি সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) ১৪ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিগা ও বারবুডার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘কেপ দাও’ও ডুবে গেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটি প্রথম হামলার শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় ভারতীয় এক ক্রু নিহত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে এগুলো দ্বিতীয় ও তৃতীয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও চাপ সৃষ্টি করছে। নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা না চালানোর ঘোষণা দিলেও হরমুজ প্রণালিতে অব্যাহত হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলাসহ মোট নয়টি হামলার খবর পাওয়া গেছে।