প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর অপপ্রয়োগ সরকারের জন্য বুমেরাং, এমনকি আত্মঘাতীও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নিয়ে মিডিয়া কমিটি ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, একটি ভুয়া তথ্য ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে মেটার মতো প্রতিষ্ঠান বিপুল অঙ্কের মুনাফা অর্জন করতে পারে। তাই মেটাসহ সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড হালনাগাদ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করলে মানুষের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্ল্যাটফর্মগুলোর মুনাফা অর্জনে আপত্তি না থাকলেও সেই মুনাফার কারণে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপব্যবহার রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যখন তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের কথা বলে, তখন ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু এ সমস্যা সমাধানে প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু আইন করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নের আগে গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের সব মানুষকে সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করা সম্ভব না হলেও তাদের উদ্বেগ, চিন্তাভাবনা ও মতামত তুলে ধরতে সক্ষম ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা উচিত।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ছাড়া এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে তা দেশের স্বার্থ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলেই নাগরিক সমাজের কার্যক্রমও কার্যকর হবে। এ কারণে গণমাধ্যমকে সহযোগী ও সহযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রস্তাবিত আইন নিয়ে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে টিআইবি।
#CyberSecurity #DigitalRights #FreedomOfExpression #TIB #Aronno_News