রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম ইন্দোনেশিয়ায় ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি করেছে। ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তিভিত্তিক ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট রপ্তানির ক্ষেত্রে এটিকে বিশ্বের প্রথম চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রোসাটম জানায়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মস্কোয় রাশিয়ান এনার্জি উইকের সাইডলাইনে ইন্দোনেশিয়ার পিটি পেমবাংকিত লিস্ট্রিক নুকলিয়ারের সঙ্গে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার উত্তর হালমাহেরা দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য মোট ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি FPU-100 মডেলের ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন করা হবে। ইউনিট দুটি পরিচালিত হবে RITM সিরিজের রিঅ্যাক্টর দিয়ে, যা রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
চুক্তির মূল শর্ত কার্যকর হওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এ চুক্তিকে ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম রপ্তানি চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ পারমাণবিক অবকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার পিটি পেমবাংকিত লিস্ট্রিক নুকলিয়ারের পরিচালক ইউদি উতোমো ইমারজোকো জানান, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ ব্যবসা-টু-ব্যবসা (B2B) বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এতে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে না।
বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যে ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৮০টি এসএমআর প্রকল্প নকশা পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে রোসাটমের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংস্থাটির আকাদেমিক লোমোনোসভ ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২০ সাল থেকে রাশিয়ার চুকোটকা অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এতে দুটি KLT-40S রিঅ্যাক্টর রয়েছে।
এ ছাড়া উজবেকিস্তানে রপ্তানির লক্ষ্যে RITM-200N রিঅ্যাক্টরভিত্তিক একটি ক্ষুদ্র মডুলার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রোসাটম। রাশিয়ার চুকোটকা অঞ্চলের একটি শিল্পাঞ্চলের জন্য RITM-200S রিঅ্যাক্টরযুক্ত ভাসমান বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে সংস্থাটি।
ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালে তার জাতীয় জ্বালানি পরিকল্পনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্ত করে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বনমুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্য অর্জনেও পারমাণবিক শক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
#NuclearEnergy #Rosatom #Indonesia #EnergyTechnology #Aronno_News