মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার খবর ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বাংলাদেশে আরও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এসব কথা জানান বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পেজে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, গ্রাম ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত শিবিরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৪ অক্টোবর আরাকান আর্মির প্রধান ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের রাথেডং এলাকার আহ নাউক পিয়িন গ্রামের রোহিঙ্গাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় গ্রামের ৫১ জনকে অপহরণের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাখাইনে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশের সীমান্তেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাতের সময় প্রাণ বাঁচাতে নাফ নদী ও স্থলসীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন রোহিঙ্গারা। নতুন করে অনুপ্রবেশ ঘটলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের বিষয়ে বিজিবির পদক্ষেপ জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকার ভূপ্রকৃতি দুর্গম; সেখানে পাহাড় ও জঙ্গল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
### দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১,৪২৫ মণ্ডপে বিজিবি
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তের অভ্যন্তরে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১ হাজার ৪২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বাহিনীর সদস্যরা এ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিজিবি সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধেও বিশেষ নজরদারি রাখবে বিজিবি। সংবেদনশীল কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনী।
#RohingyaCrisis #MyanmarNews #BorderSecurity #BangladeshNews #Aronno_News