একসময় দুর্গাপূজা এলেই পাড়ায় পাড়ায় মাইকে বাজত নতুন-পুরোনো বাংলা গান। ক্যাসেটের দোকানে ভিড়, পছন্দের গানের অ্যালবাম কেনা আর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চেনা সুরে মুখরিত হয়ে থাকা পাড়া—সব মিলিয়ে পূজার আনন্দে যোগ হতো অন্যরকম মাত্রা।
সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে গান শোনার মাধ্যম। ক্যাসেটের জায়গা নিয়েছে সিডি, আর এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই সহজে পাওয়া যায় পছন্দের গান। কিন্তু পূজার সেই পুরোনো গানগুলো আজও অনেকের মনে জাগিয়ে তোলে ফেলে আসা দিনের স্মৃতি।
একসময় পূজার নতুন গানের অ্যালবাম প্রকাশ ছিল বিশেষ আকর্ষণ। মণ্ডপে বা পাড়ার মাইকে কোনো গান কানে এলেই সেটি কার গাওয়া, গানের নাম কী—তা জানার আগ্রহ তৈরি হতো। বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গান ঘিরে তৈরি হতো উৎসবের আলাদা আবহ। প্রেম, বিরহ, ভালোবাসা আর জীবনের নানা অনুভূতি জায়গা করে নিত এসব গানে।
স্মৃতির পাতায় আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে ‘কিনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘কোথা কোথা খুঁজেছি তোমায়’, ‘তুমি কত যে দূরে’, ‘মনে পড়ে রুবি রায়’, ‘ও মোর ময়না গো’, ‘চোখে চোখে কথা বলো’ ও ‘নয়ন সরসী কেন ভরেছে জলে’র মতো গান।
এ তালিকায় আরও রয়েছে ‘আমি ফুল না হয়ে’, ‘যেতে যেতে পথে হলো দেরি’, ‘আমার পূজার ফুল’, ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও’, ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’, ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’, ‘আমি যে কে তোমার তুমি তা’, ‘এই তো জীবন’, ‘আর কত রাত একা থাকব’ এবং ‘আজ এই দিনটাকে’র মতো জনপ্রিয় গান।
দুর্গাপূজা মানেই নতুন পোশাক, আলোর ঝলকানি, ঢাকের বাদ্যি, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। তবে অনেকের কাছে পূজার আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে পাড়ার মাইকে ভেসে আসা সেই চেনা সুরগুলোও।
প্রযুক্তি বদলেছে, গান শোনার ধরনও পাল্টেছে। তবু পুরোনো কোনো পূজার গান হঠাৎ কানে এলে ফিরে আসে কৈশোর কিংবা তারুণ্যের দিনগুলো। মনে পড়ে যায় পরিচিত পাড়া, উৎসবের উচ্ছ্বাস আর ফেলে আসা সময়ের গল্প। তাই পুরোনো পূজার গান শুধু সংগীত নয়, অনেকের কাছে তা স্মৃতির এক অমূল্য অধ্যায়।
সূত্র: দ্য ডেইরি স্টার