সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি দিয়ে তৈরি দুর্গাপ্রতিমার সাজসজ্জা রাতারাতি বদলে ফেলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রতিমা থেকে দেশলাই কাঠি সরিয়ে কিসমিস ও তিল দিয়ে নতুন করে সাজানোর কাজ করছেন শিল্পীরা। পূজার ঠিক আগমুহূর্তে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমার সাজসজ্জা পরিবর্তনের নির্দেশে হতাশ হয়েছেন আয়োজক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে দেশলাই কাঠি সরানোর নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার মধ্যে কাঠিগুলো অপসারণের সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।
প্রশাসনের নির্দেশনার পর বুধবার রাতেই প্রতিমা থেকে দেশলাই কাঠি সরানোর কাজ শুরু করেন আয়োজকরা। রাতভর প্রতিমাশিল্পীরা সাজসজ্জা পরিবর্তনে কাজ করেন। দেশলাই কাঠির পরিবর্তে কিসমিস ও তিল দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকার সাজানোর চেষ্টা চলছে।
আয়োজক কমিটির সদস্যদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা। এতে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিমাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
আয়োজকদের দাবি, সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। দেশলাই কাঠির বারুদ অপসারণের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিমাটি পরিদর্শন করেন বলে জানান তাঁরা। মণ্ডপে বালু ও পানি রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন আয়োজকরা। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দেশলাই কাঠি সরানোর নির্দেশ আসায় তাঁরা হতাশ হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। সরকারি নির্দেশনা পালন করা নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব। দেশলাই কাঠি অপসারণ করে প্রতিমাটি নতুনভাবে সাজানোর জন্য তিনি শিল্পীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এ কাজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার ভারতের একটি মন্দিরে এ ধরনের শিল্পকর্ম দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেন। প্রায় দেড় মাসের প্রস্তুতিতে তৈরি এই প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে ব্যবহার করা হয়েছিল দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা।
পূজার প্রস্তুতির শেষ সময়ে সাজসজ্জা বদলে যাওয়ায় আগের আয়োজন আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে আক্ষেপ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন সাজসজ্জায় প্রতিমা প্রস্তুত করতে কাজ করছেন শিল্পী ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা।
#Aronno_News #Satkhira #DurgaPuja #BangladeshNews #LatestNews