আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের কর্মকাণ্ড, স্বার্থের সংঘাত ও কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডেমোক্র্যাটরা। এ পরিকল্পনার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে দলটির প্রতি হুঁশিয়ারিমূলক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাস্ক।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, ‘যে তরবারি দিয়ে আঘাত করবে, সে তরবারির আঘাতেই মরবে।’ নির্বাচনে জয়ী হলে মাস্কের কর্মকাণ্ড তদন্তের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনা নিয়ে সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একই পোস্টে মাস্ক বলেন, যারা তাঁর সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন, তাঁদের পেছনে থাকা মূল ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন তিনি।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পেছনে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া মাস্ক রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় অর্থদাতা। তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স বিভিন্ন সরকারি চুক্তির সুবিধাভোগী। পাশাপাশি তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান।
এর আগে সরকারি ব্যয় কমানো এবং বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগেও নেতৃত্ব দেন মাস্ক। এসব কর্মকাণ্ড ও তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি দায়িত্বের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। তবে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের কথা জানিয়েছে পলিটিকো।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব তাঁদের হাতে যেতে পারে। এতে মাস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত এবং তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে ডেমোক্র্যাট সদস্য জো লোফগ্রেনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মাস্কের স্বার্থের সংঘাত ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগের তালিকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।