যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলি চালিয়ে তিন শিশু ও এক শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ১৬ বছর বয়সী অভিযুক্ত গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয়কে তার মা জন্মদিনের উপহার হিসেবে একটি শটগান দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। এ ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য, অস্ত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্তের মা শনটাই নিকারসন ২০২৬ সালের আগস্টে আইন মেনে একটি ‘ম্যাভেরিক ৮৮’ পাম্প-অ্যাকশন ১২-গেজ শটগান কেনেন। পরে বিনোদনমূলক ব্যবহারের জন্য সেটি ছেলেকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় ওই কিশোর। একসময় সে বিদ্যালয়টির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে অভিযুক্ত একটি চলন্ত পিকআপ ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই গাড়ির চালকই প্রথম জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
এরপর বিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ কাচের দরজায় গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে সে। পরে প্রথম শ্রেণিকক্ষে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে তিন শিশু ও ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেগান ল্যামবার্ট নিহত হন। নিহত শিশুদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী রোয়াম সামারও রয়েছে। অন্য দুই শিশুর বয়স ছিল ৮ ও ১১ বছর। এ ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক ছাত্রী ও ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষক আহত হন।
পুলিশ জানায়, হামলার সময় শ্রেণিকক্ষটিতে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন ছিলেন। একপর্যায়ে একজন শিক্ষক অভিযুক্তের কাছ থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই শিক্ষার্থীর বাবা জিয়ামাঙ্কো সেখানে প্রবেশ করে গুলি চালান। এতে অভিযুক্ত কিশোর নিহত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, নিহত শিশুদের একজনের অভিভাবকেরা ইতিমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। তারা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা, হামলা প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং অভিযুক্ত কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে চান।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কোনো আইনগত দায় রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্য ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।