তৃণমূল পর্যায় থেকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ভবিষ্যতের তারকা ও দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫০২৩টি উপজেলায় একযোগে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং যুব ও ক্রীড়া ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান। প্রধানমন্ত্রী মাঠে প্রবেশ করতেই গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশু-শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হেঁটে গ্যালারির কাছাকাছি গিয়ে হাত নেড়ে শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছা জানান। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। এসময় ক্ষুদে প্রতিযোগীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে গত বছর এ প্রতিযোগিতার প্রথম আসর শুরু হয়েছিল। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের দ্বিতীয় আসরে আগের ৮টি ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০টি ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ক্ষুদে খেলোয়াড়রা। তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক সাড়ায় এবার অনলাইনে নিবন্ধনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জনে।
মোংলা বন্দর উন্নয়ন ও মাজার জিয়ারত
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর দুপুর ২টায় বাগেরহাটে হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।
মাজার জিয়ারত শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পথিমধ্যে রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় পৌঁছালে প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষের কাছে যান এবং তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সাবলীল আচরণে স্থানীয় মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিকেল পৌনে চারটায় তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়াম মাঠে উপস্থিত হন।