দেশের চলচ্চিত্রের সংকট কাটিয়ে সৃজনশীল ও মানসম্মত সিনেমা নির্মাণে সরকারি অনুদান নীতিমালা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। একসঙ্গে অনেক চলচ্চিত্রে অনুদান না দিয়ে চিত্রনাট্য যাচাই ও প্রকল্পের মান বিবেচনায় ধাপে ধাপে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। দেশীয় চলচ্চিত্রের সংকট ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন এই নির্মাতা।
অমিতাভ রেজা বলেন, বাণিজ্যিক অর্থায়নে যেসব সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণ কঠিন, সেগুলোর বিকাশে সরকারি অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনুদান বিতরণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু অনুদানের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে প্রকল্প নির্বাচন ও চলচ্চিত্রের মানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ধাপে ধাপে অর্থায়নের প্রস্তাব
সরকারি অনুদান ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরে অমিতাভ রেজা বলেন, প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত প্রকল্পগুলোকে চিত্রনাট্য উন্নয়নের জন্য অর্থ দেওয়া যেতে পারে। চিত্রনাট্য তৈরি হলে সেগুলো যাচাই করে মানসম্মত ও সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোকে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অর্থায়ন করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য অর্থ দেওয়া যেতে পারে। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ২০টি প্রকল্পকে চিত্রনাট্য উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন করে সেখান থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সেরা প্রকল্পগুলোকে পরবর্তী ধাপে নেওয়া যেতে পারে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনাও বাড়বে।
এফডিসি আধুনিকায়নের তাগিদ
চলচ্চিত্র খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ উন্নত করতে পুরোনো অবকাঠামো আধুনিক করার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রে অর্থায়নের বিকল্প উৎস সৃষ্টি এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।