২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ ২ হাজার ৯৫৭ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে পুলিশের অভিযানে। এ সময়ে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), যাদের অভিযানে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আসকের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন আরও ৬৯ জন। সব মিলিয়ে পুলিশ, র্যাব ও তাদের যৌথ অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৬৪০ জন।
দীর্ঘ সময় ধরে এসব মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণের জন্য পৃথক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। আসকের বার্ষিক প্রতিবেদনভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের পর থেকে পুলিশ বা র্যাবের হাতে ‘ক্রসফায়ার’ কিংবা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মৃত্যুর কোনো তথ্য সংগঠনটি নথিভুক্ত করেনি। তবে অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এ ধরনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে একজন নিহত হন। ২০২৫ সালে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একজন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশ ও র্যাবের ক্ষেত্রে এ ধরনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত না হলেও অন্যান্য বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আসকের হিসাবে, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ মোট ২ হাজার ৯৫৭ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। দীর্ঘ ২২ বছরের এই পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব সামনে এনেছে।