সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বাসায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে পাওয়া ডিজিটাল তথ্য-উপাত্তের সূত্র ধরে মামলাটিতে তাঁর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যাচাই করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। তবে এ বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের দাখিল করা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় দুদকের অভিযানে জিও লোকেশন, এসএমএস ও কল ডিটেইল রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন প্রাথমিকভাবে দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর ডিজিটাল আলামত ও তথ্য-উপাত্ত তদন্তের জন্য হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে প্রসিকিউশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে টাস্কফোর্স। তবে প্রতিবেদন দাখিলের সময় পর্যন্ত সেসব তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছায়নি।
তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে তিন পুরুষ ও একজন নারীর ডিএনএ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একজন পুরুষের ডিএনএ সাগরের এবং নারীর ডিএনএ রুনির বলে শনাক্ত হয়েছে। বাকি দুই পুরুষের ডিএনএর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হলেও ডিএনএর মিশ্রণের কারণে অপরাধীদের শনাক্ত করার মতো প্রোফাইল বা ছবি তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া আগের তদন্তকারীরা ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছেন। টাস্কফোর্স আরও ৯০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২৪ জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ ১৪ বছরেও আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুসের বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ৩০০টি সিডি এবং তাতে থাকা বিভিন্ন তথ্য, কথোপকথন, অডিও ও ভিডিও পর্যালোচনা করা হবে। সাগর-রুনি হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের পর পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
#SagarRuni #JournalistMurder #BangladeshNews #JusticeForSagarRuni #CrimeInvestigation #Aronno_News