এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজ-ইনস্টিটিউটগুলোতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য যত আসন রয়েছে, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক আসনই ফাঁকা থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে পারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে এমন ৫৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন ৬৩ হাজার ৬৬৫টি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে সবচেয়ে বেশি ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৪২ হাজার ৪৩৪টি এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে ১১ হাজার ২৯০টি আসন রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯৫৭টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫১৫টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১০৯টি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬৩৬টি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে ১ হাজার ৮০০টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটেও বিপুলসংখ্যক আসন রয়েছে।
আসন ও পাসের সংখ্যায় বড় ব্যবধান
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ মোট ভর্তিযোগ্য আসনের তুলনায় পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। হিসাব অনুযায়ী, আসনের প্রায় ৪০ শতাংশের বিপরীতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী রয়েছেন। ফলে সব আসন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর বাইরে জিপিএ-৫সহ সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচলিত ভর্তি যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারবেন না। তবে এসব শর্ত শিথিল করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক।
ফল প্রকাশের দিন তিনি বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু মানদণ্ড বজায় রেখে শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে, সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মতো করে বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকবে। এদিকে এবারের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে বিশেষ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয় না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের সুযোগ আগে ছিল না। বিশেষ পরীক্ষা ও খাতা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে আরও অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। এসব প্রক্রিয়া শেষে পাসের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: বাংলানিউজ