চট্টগ্রাম দক্ষিণের বিভিন্ন উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দলটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রত্যেক উপজেলা থেকেই সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরকার ও দলকে জানানো হয়েছে। দলীয়ভাবে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি অবহিত করা হবে।
গত ১২ অক্টোবর লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির নেতারা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক আবেদন করেন। এতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রস্তুত করা তালিকা বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া কিছু সার ডিলারের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রস্তাবিত তালিকায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ফ্যাসিবাদী আমলের সুবিধাভোগী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের পদধারীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়ম হয়েছে। যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ না করে এমন ব্যক্তিদেরও ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যাদের সার ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা, নিজস্ব দোকান কিংবা প্রয়োজনীয় গুদাম নেই।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেক অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ডিলারশিপ পাননি। অথচ তাদের নিজস্ব বা ভাড়া করা গুদাম রয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ায় সার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সার বিতরণে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ কৃষকরা। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী ভিত্তিতে। তিন মাসের মধ্যে কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার বিতরণ, মজুত ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং অবৈধ মজুত ও বিপণনসংক্রান্ত অনিয়ম সরেজমিনে পরিদর্শন করে সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. রোকন উদ্দীন ও সাবিরা সুলতানা।