রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো পরিবর্তন না হলে সার্বিক বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর এর উদ্যোগে উত্তরা জসিম উদ্দীন মোড়ে দাওয়াতী মাসের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ফয়জুল করীম বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো সংস্কার ও শরীয়াহ ভিত্তিক পরিবর্তন আনা না হলে কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রই নয় বরং প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ সার্বিকভাবে রাষ্ট্র এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। কেবল অর্থনৈতিক নীতি বা সাময়িক পদক্ষেপে কোন টেকসই সমাধান আসবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জবাবদিহিতার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম যদি অক্ষুণ্ণ থাকে, তবে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবাসহ সর্বক্ষেত্রে। তিনি আরও বলেন, যখন একটি রাষ্ট্রের পরিচালনা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন কেবল অর্থনৈতিক মন্দাই তৈরি হয় না। বরং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, ন্যায়বিচার ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়। ফলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। ফয়জুল করীম আরও বলেন, একটি কার্যকর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতায় জোর দেয়া এবং সর্বস্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার সামগ্রিক নীতি ও কাঠামোতে দ্রুত ও কার্যকর পরিবর্তন আনা না হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব আবুল কালাম, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন পরশ, মুফতি নিজাম উদ্দিন, মুফতি আব্দুল কুদ্দুস রশিদী, মুফতি মাছউদুর রহমান, মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার অব. আলহাজ্ব আমিনুল হক তালুকদার, আলমগীর হোসেন, মুফতি সাব্বির আহমদ, আরমান হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন, আশিকুর রহমান খান, আলহাজ্ব আবু জাফর আলম প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ২৪শের গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের স্বপ্ন ছিল আমরা একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ রাষ্ট্র পাবো। মাদক মুক্ত একটি সমাজ গড়ে উঠবে। কিন্তু আমরা দেখেছি এখনো তুরাগ নদীতে মানুষের লাশ ভাসে, আমার বোন-শিশুরা এখনো ধর্ষিতা হয়, গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে রাজপথে মিছিল করে, অবরোধ করে, যুবকরা মাদকাসক্ত হয়ে জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। এখনো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এমন বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাইনি। বাংলাদেশকে কলুষমুক্ত করতে হলে শরীয়া ভিত্তিক পরিচ্ছন্ন রাজনীতির রোলমডেল প্লে করতে হবে। আর সেই রোল মডেল প্লে করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।