রাশিয়ার অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেতে ইউক্রেনকে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার এ বিক্রির অনুমোদনের বিষয়টি জানায়। উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপের মিত্র দেশগুলো ও কানাডা এ ক্রয়ের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে। শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দ্রুত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান জেলেনস্কি। রাশিয়ার প্রাণঘাতী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থাকে ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মতবিরোধের পর এ বিক্রির অনুমোদন এলো। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরপর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর আগে ২০১৪ সালে দেশটি ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং পূর্বাঞ্চলের দনবাসের কিছু এলাকা দখল করে। গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রস্তাবিত এ বিক্রি ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে। পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণেও সহায়তা করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ক্রয়ের অর্থ কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদান, জাম্পস্টার্ট কর্মসূচি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণের অর্থায়নে পরিচালিত জাতীয় তহবিল থেকে পরিশোধ করা হবে। এ বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের নাম উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, এ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।